Home / স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য / কেন প্রতিদিন আপেল খওয়া উচিত ! আপেলের উপকারিতা গুলো জেনে নিন ।

কেন প্রতিদিন আপেল খওয়া উচিত ! আপেলের উপকারিতা গুলো জেনে নিন ।

আসুন জেনে নেই কেন আমরা প্রতিদিন একটি করে আপেল খাবো।আপেল খেলে কি হবে?

আপেল আমাদের দেশি ফল না কিন্তু সারাদেশেই এর প্রচলন রয়েছে ব্যপক । এই ফলের যেমন পুষ্টি গুনের তুলনা নেই তেমনি খেতে ও খুব সুস্বাদু । আপেল নিয়ে একটি প্রবাদ আছে , আর এই উপদেশ ডাক্তাররাই দিয়ে থাকেন , তা হলো- অ্যান অ্যাপল আ ডে , কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে। এই উপদেশ ডাক্তাররাই দিয়ে থাকে। কিন্তু কেন প্রতিদিন আপেল খাওয়া উচিত। জেনে নিন-

apple,আপেল,ওজন,উপকারিতা,আপেলের উপকারিতা,কেন,কেন আপেল,স্বাস্থ্য,শরীর

 

১ . অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট :

আপেলের মধ্যে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল  ফেনোলিক গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ  করে। যা রক্তে ফ্রির‌্যাডিকালের সংখ্যা কমায় ।

apple,আপেল,ওজন,উপকারিতা,আপেলের উপকারিতা,কেন,কেন আপেল,স্বাস্থ্য,শরীর

 

২ . ফুসফুস :

এজমা সমস্যা কমাতে সাহায্য করে আপেল । ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ।

৩ . রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা :

আপেলের মধ্যে থাকা কোয়ারেকটিন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ফুসফুসকে ও ভালো রাখে ।

৪ . হজম :

আপেলের খোসায় ইনসলিউবল ফাইবার থাকে । যা খাবার হজমে সাহায্য করে।কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় আপেল ভালো কাজ দেয় ।

৫ . স্নায়ু :

নিয়মিত আপেল খেলে স্নায়ু সতেজ থাকে , নিউরোট্রান্সমিটার উৎপন্ন হয় যা স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে । আপেল অ্যালজাইমার থেকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায় ।

৬ . হার্ট :

আপেলের মধ্যে থাকা সলিউবল ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্তন রাখে এবং আপেল ধমনী ব্লক হওয়া থেকে আটকাতে সাহায্য করে । এছাড়াও , আপেলের খোসার মধ্যে যে ফেনলিক উপাদান থাকে , তা রক্ত নালীর থেকে কোলেস্টেরল দূর করতে সাহায্য করে । এর ফলে হার্টের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে।ফলে হ্রদযন্ত্রের ক্ষেতি হওয়ার  আশঙ্কা কমে ।

৭ . সাদা ঝকঝকে দাঁত :

আপেল  খেলে দাঁতের অনেক উপকার হয়ে থাকে । তার কারন হলো আপেল খাওয়ার সময় আমরা যখন আপেলে কামড় দিয়ে চিবোতে শুরু করি তখন মুখের ভিতর থেকে লালা নিগর্ত হয় । লালার সাথে দাঁতের কোনা থেকে অনেক ক্ষতিকারক  ব্যকটেরিয়া বের হযে আসে ।এর  ফলে সেই ব্যাকটেরিয়া দঁতের আর কোনো ক্ষতি করতে পরেনা। তাই বলে যে শুধু আপেল খেয়ে দাঁতের  যত্ন  নিবেন তা না ! মনে করে প্রতিদিন টুথপেস্ট এবং ব্রাস ব্যবহার করে দাঁতের যত্ন নিতে হবে ।

৮ . ক্যান্সার দূর করে : 

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রির্চ এর পক্ষ থেকে জানা গেছে যে , আপেল খেলে অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে যায় প্রায় ২৩% হারে।তার কারন হলো আপেলের মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমানে ফ্ল্যাভোনল।এছাড়াও কর্ল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষকরা এমন কিছূ উপাদান খুজে পেয়েছেন ,যার পরিচিতি ট্রিটারপেনয়েডস নামে। এই উপাদানটি স্তন , লিভার এবং কোলনের মধ্যে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি পওয়া থেকে বাধা প্রদান করে।ন্যাশানাল  ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ইন দ্য ইউ এস – এর  গবেষনা থেকে জানা গিয়েছে যে আপেলে যে পরিমানে ফাইবার থাকে তা মলাশয়ের ক্যান্সার হওয়া থেকে বাধা প্রদান করতে সহায়তা করে।

apple,আপেল,ওজন,উপকারিতা,আপেলের উপকারিতা,কেন,কেন আপেল,স্বাস্থ্য,শরীর

 

৯ . ডায়াবেটিসের সমস্যা কমায় :

যে সকল মহিলারা প্রতিদিন আপেল খেয়ে থাকেন ,তাদের  ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ২৮% কমে যায়। তার কারন হলো , আপেলের মধ্যে ফাইবার নামক যে উপাদানটি থাকে , সেটি রক্তে  শর্করার পরিমান সঠিক রাখতে সাহায্য করে ।

১০ . গলস্টোন সারাতে সাহায্য করে : 

গলোস্টন থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে আপেল খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।পিত্তথলির মধ্যে যখন খুব বেশি পরিমানে কোলেস্টেরল জমে যায় তখন গলস্টোন হয় । গলস্টোন কমানোর জন্য সব সময় ডাক্তাররা ফাইবার যুক্ত ফল বা খবার খাওযার পরামমৃ দিয়ে থাকেন । গলস্টোন  সারানের জন্য ওজন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রসঙ্গত , এই সবকটি কাজ  যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে আপেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

১১ . ওজন কমাতে সাহায্য করে :

কত মানুষই তো আছেন , যারা অতিরিক্ত ওজনের কারনে নানা সমস্যায় ভুগে থাকেন। যার কারনে নানা রকমের রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে  শুরু করে। এমনকি ডায়াবেটিস ,হাড়ের রোগ  আরও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই  সেই সমস্ত রোগ চিরদিনের জন্য সারাতে চাইলে , নিয়মিত আপেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ফলটিতে উপস্থিত ফাইবার আপনার পেট ভরাতে সাহায্য করে এবং ওজন ও নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।

২০০৪ সালে আমেরিকায় ১০০ এর ও বেশি খাবারের ওপর গবেষনা করা হয়।মূলত ,খাদ্যগুলোর মধ্যে কতটা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে , তা জানতেই এই গবেষনা করা করা হয়েছিল । তাই প্রতিদিন আপেল খাওয়াটা খুবই প্রয়োজন ।

 

ইতি কথা,

স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।আমার লেখাটি কেমন লেগেছে কমেন্ট করে জানাবেন আর কথাও ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।লেখাটি শেয়ার করার মত হলে অবশ্যই শেয়ার করে আপনার আপনজনদের পড়ার সুযোগ করে দিবেন।ধন্যবাদ।