কিভাবে একটি ভালো ল্যাপটপ নির্বাচন করবেন।

How to Choose a good Laptop,কিভাবে একটি ভালো ল্যাপটপ নির্বাচন করবেন,কিভাবে,ল্যাপটপ, ল্যাপটপ নির্বাচন,ল্যাপটপ নির্বাচন করবেন,কিভাবে,ল্যাপটপ

একটি নতুন ল্যাপটপ কিনতে চান?বা আপনার পরিচিত কেউ কিনতে চায় এবং সে আপনার কাছ থেকে সাজেশান চেয়েছে কিন্তু আপনি নিজেই জানেন না কোনটা কিনবেন কারণ বাজার এত ল্যাপটপ আছে যে আপনি সঠিক ল্যাপটপ নির্বাচন করতে গেলে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পরবেন। আজ আপনাকে দেখাবো কিভাবে একটি ভালো ও মানানসই ল্যাপটপ কিনবেন।নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে…।

আপনার বাজেট এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী একটি নিদিষ্ট দিকে ফোকাস করে ল্যাপটপ নির্বাচন করতে পারেন।যেমনঃ-

১/ল্যাপটপ ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করুন :-

একটি ল্যাপটপ কিনার জন্য আপনার প্রধান ব্যবহার সম্পর্কে চিন্তা করুন। আপনার ল্যাপটপ ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্যই আপনার ল্যাপটপের বাজেটের আকারের উপর সবচেয়ে প্রভাব ফেলবে। মানুষ অগণিত কারণে কম্পিউটার ব্যবহার করে, কিন্তু সাধারণ ব্যবহারের নিম্নোক্ত বিভাগগুলির মধ্যে একটিতে পড়ে। যখন আপনি ল্যাপটপগুলি দেখছেন তখন এইগুলি মনে রাখবেন:

 অফিস / স্কুলওয়ার্ক – ওয়ার্ড প্রসেসিং, গবেষণা,স্প্রেডশীট এবং অন্যান্য পেশাদার এবং একাডেমিক কাজের জন্য বেশিরভাগ কম্পিউটার ব্যবহার করুন।
গেমস – সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ গেম খেলে, কিন্তু এখনও অন্যান্য কর্মের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে।
ওয়েব ব্যবহার – প্রাথমিকভাবে ওয়েবসাইটগুলি, ইমেল, স্ট্রিমিং ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে।
মিডিয়া প্রোডাকশন – সঙ্গীত রেকর্ড করার জন্য, ভিডিও সম্পাদনা করার জন্য, বা ইমেজগুলি সম্পাদনা করতে ওয়ার্কস্টেশন হিসেবে কম্পিউটার ব্যবহার করে।

একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের থেকে আপনি একটি ল্যাপটপ বাছাই করতে পারেন অনেক কারণ আছে। যেহেতু ল্যাপটপ আরও শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে, সেহেতু ডেস্কটপ না কিনলেও চলে।
ল্যাপটপ কেনার প্রধান কারণ হচ্ছে এটি পোর্টেবল। ল্যাপটপ নিয়ে আপনি যে কোন জায়গায় যেতে পারেন, এবং দিনদিন ল্যাপটপ আরও হালকা এবং পাতলা হচ্ছে।

এখন ল্যাপটপ ডেস্কটপ এর চেয়ে বেশি কাজ করতে পারে।খুব কমই প্রোগ্রাম আছে যা ডেক্সটপ করতে পারে আর ল্যাপটপ করতে পারে না।

ল্যাপটপ অনেক জায়গা বাঁচায়। একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, একটি ইউপিএস, মনিটর, কীবোর্ড, এবং মাউস সঙ্গে, আপনার বাড়িতে অফিসে বা বেডরুমের মধ্যে অনেক স্থান  দখল করে।কিন্তু  একটি ল্যাপটপ শুধু একটি ছোট ডেস্ক  প্রয়োজন এমনকি আপনি চাইলে সোফায়,খাটে শুয়ে বসে ল্যাপটপ এ কাজ করতে পারবেন।

এক সময় ল্যাপটপ বিরাট বোঝা ছিল।এখন ল্যাপটপ হালকা-পাতলা হয়েছে সামনে আরও হবে তারপরও ল্যাপটপ এর কিছু ত্রুটি রয়েছে যা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে এবং সিধান্ত নিতে হবে ল্যাপটপ নিবেন নাকি ডেক্সটপ নিবেন।

১।একটি ল্যাপটপ ব্যাটারি দ্বারা সীমাবদ্ধ।চার্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ল্যাপটপ নিয়ে ঘুরতে পারবেন। অবশেষে,চার্জ শেষ হলে এটি কে প্লাগ ইন করার প্রয়োজন  পরবে।

২/হালকা ও সহজে বহন করা যায় বলে ল্যাপটপ সহজে চুরি করা যায়।যেখানে ডেক্সটপ চুরি করা অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।

৩/অল্প ব্যবহারে ল্যাপটপ খুব সহজেই গরম হয়ে যায় যেখানে ডেক্সটপ গরম হতে অনেক সময় লাগে।

৪/ল্যাপটপগুলি ডেস্কটপের মতো আপগ্রেড করা যাবে না। এর মানে হল যে তারা ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় অপ্রচলিত দ্রুত হয়ে যায়। আপনি সাধারণত স্টোরেজ বা মেমরি আপগ্রেড করতে পারেন, তবে আপনি প্রসেসর বা ভিডিও কার্ড আপগ্রেড করতে পারবেন না, যা অবশেষে আপনার ল্যাপটপ অপ্রয়োজনীয়  হয়ে যায়

৫/ল্যাপটপ এর তুলনায় ডেক্সটপ এর দাম কম মানে আপনি নিজের চাহিদা মত আলাদা আলাদা কম্পোনেন্ট দিয়ে বাজেট এর মধ্যে ডেক্সটপ বানাতে পারবেন।আলাদা কম্পানির আলাদা কম্পোনেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু ল্যাপটপ এর বেলায় ল্যাপটপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি যেভাবে বানায় সেটাই কিনতে হবে।সেই ক্ষেত্রে ল্যাপটপ কিনতে গেলে এক ল্যাপটপ সব চাহিদার প্রডাক্ট পাবেন না।

৬/আপি চাইলে ডেস্কটপের কিছু পার্টস পরে কিনতে পারবেন যেমন গ্রাফিক্স কার্ড,SSD hard disk,2nd slot er RAM,Cooler,DVD righter etc।এগুলা আপনি এখন না কিনে পরে টাকা জমিয়ে কিনতে পারবেন কিন্তু ল্যাপটপ এর বেলায় পারবেন না।

২/বাজেট নির্ধারণ ক্রুনঃ-

ল্যাপটপ কিনার আগে বাজেট ঠিক করে নিন আর খোঁজ নিন নতুন ল্যাপটপ এসেছে কিনা বা কবে আসবে বা ল্যাপটপ এর দাম কমবে কিনা।

৩/বিভিন্ন ব্র্যান্ড এর ল্যাপটপ দেখুনঃ-

ল্যাপটপ কিনার আগে অবশ্যই অনেক গুলা ব্র্যান্ড এর ল্যাপটপ দেখুন কারণ এক এক ব্র্যান্ড এর ল্যাপটপ এ আলাদা আলাদা সুবিধা থাকে।কেউ স্টাইল এর উপর ফোকাস করে আবার কেউ পারফমেন্স এর উপর,কেউ ব্যাটারির স্থায়িত্বের উপর ফোকাস করে।আপনার কোনটা দরকার সে অনুযায়ী ল্যাপটপ কিনবেন।

৪/সব সময় লেটেস্ট মডেল কিনুনঃ-

অনেকে দাম কম বলে পুরান মডেলের ল্যাপটপ খুঁজে বা কিনে কিন্তু পুরান মডেলে অনেক  ত্রুটি থাকে যা  লেটেস্ট মডেল এ থাকে না আর লেটেস্ট কোন সফটওয়্যার বা গেইম পুরান মডেলে চলে না।তাছাড়া লেটেস্ট মডেলের রেম,প্রসেসর,গ্রাফিক্স,ব্যাটারি লাইফ বেশি ও আপডেট করা থাকে।

৫/MAC নাকি Windows নিবেন:-

আপনি যদি শুধু মাত্র টাইপিং জাতীয় কাজ করেন এবং বাজেট ভালো তাহলে মেকবুক নিতে পারেন।উইন্ডোজ ল্যাপটপ[ এর তুলনায় মেক এর পারফমেন্স অনেক ভালো এবং লুকিং ও ভালো।যদি কাজের পাশাপাশি হাল্কাপাতলা গেইম খেলতে চান,ভিডিও এডিট করতে চান তাহলে উইন্ডোজ নিতে পারেন।মেকের ব্যবহার বিধি সীমিত কিন্তু উইন্ডোজ এর ব্যবহার অনেক।

আজ এই পর্যন্তই।ল্যাপটপের টপিক নিয়ে আবার আরেকদিন আসবো।কষ্ট করে এতবড় লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।যদি কিছু মিস হয়ে যায় তাহলে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন আমরা পোস্টে এড করে নেবো।

আরও প্রুনঃ-কিভাবে আপনার ফোন এর ব্যাটারির চার্জ এর স্থায়িত্ব প্রসারিত করবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *