Home / স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য / আপনি জনেন কী?লিপস্টিক আসলে কী এবং কী এর ইতিহাস?

আপনি জনেন কী?লিপস্টিক আসলে কী এবং কী এর ইতিহাস?

আসুন জেনে নেই লিপস্টিক এর ইতিহাস।

বাজারে অনেক ধরনের ভিন্ন দামের ভিন্ন ধরনের লিপস্টিক পাওয়া যায় । আসলে জানেন কী এই লিপস্টিক কীসের তৈরি এবং কী এর ইতিহাস ?

আসুন জেনে নেই।

লিপস্টিক এর  উপকরনঃ-

লিপস্টিক আসলে মোম,রং ও কিছু পরিমানে রাসানায়িক পদার্থ এর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় শুধু এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কিছু সুগন্ধি ব্যাবহার করে এর দাম বারিয়ে দেওয়া হয়।

লিপস্টিক

ইতিহাসঃ- প্রাচীন কালে লিপস্টিক এর বিকল্পে ব্যাবহার হতো ফল,হেনা,কাদামাটি এবং অব্যশই কীটপতঙ্গ যেমন যে সকল প্রাকৃতিক পদার্থ গুলোতে রঙ পাওয়া যায়।যুগের আধুনিকতার সাথে লিপস্টিকের উপকরনে এসেছে এক সু-বিশাল পরিবর্তন । পৌরানিক সভ্যতায় সাজ-সজ্বা একটি সন্মানজনক প্রতীক এবং সাজ-সজ্বায় নারী ও পুরুষ এর মাঝে কোন দ্বিধা বোধ ছিলো না। লিপস্টিক এর প্রথম ব্যাবহারকারীর গননা করলে সুমেরিয়নদের নাম প্রথমে থাকবে। তারা লিপস্টিক হিসাবে প্রাকৃতিক জিনিস গুলি ব্যাবহার করতো। মেসোপটেমিয়ার মহিলারা ছিল অনেকটাই কল্পনার উপর নির্ভরশীল প্রকৃতির তারা এর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এর সাথে ঝিলিমিলার গহনা ব্যাবহার করতো।

প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায় ও নারীদের মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য লিপস্টিক ব্যাবহার এর প্রমান পাওয়া যায়। আধুনিক লিপস্টিক এর ব্যাবহার সর্ব প্রথম মিশরীয়রা শুরু করে কারন তারাই প্রথম প্রাকৃতিক উপাদান সামুদ্রিক আগাছা থেকে আরোহিত পারপল-লাল রঙ এর সাথে ০.০১% আয়োদিন এবং কিছু পরিমানে ব্রোমিন মিশিয়ে লিপস্টিক হিসাবে ব্যাবহার করেছিলেন । রানি ক্লিওপেট্রা তাঁর ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যাবহার করতেন যা তৈরি হতো মেরুন রঙ এর বিটল পোকা থেকে, এতে ঠোঁটে একটি গাঢ় লাল আভা পরে থাকতো ,এছাড়া বেজ দেওয়ার জন্য পিপড়া ব্যাবহার করা হতো। জাপানের মহিলারা মোমের তৈরি কালো লিপস্টিক ব্যাবহার করতো । আর গ্রীক সভ্যতায় এই কালো লিপস্টিক ছিল পতিতাদের প্রতীক , এবং পতিদের মধ্যে বাধ্যতামুলক আইন প্রচলন ছিল যে তাদের কালো লিপস্টিক পরতেই হবে।

কেন প্রতিদিন আপেল খওয়া উচিত ! আপেলের উপকারিতা গুলো জেনে নিন ।

আরবের বিজ্ঞানী আবুলক্যাসিস প্রথম দৃঢ় (শক্ত)(কঠিন) ধরনের লিপস্টিক আবিষ্কার করেন,এতে করে সারা বিশ্বে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর কেন যেন মানুষ এর মধ্যে এক ভিতি জন্ম নেয় গুজবের মত ছরানো শুরু করে যে লাল ঠোঁট শয়তানের উপাসক, যেহেতু ঠোঁট লাল করার জন্য লিপস্টিক ব্যাবহার করা হয় তাই লিপস্টিক ব্যাবহার বন্ধ হয়ে জায়। ১৬ শতাব্দীতে রানী এলিজাবেথের শাসনের সময় লিপস্টিক এর পূনরায় জন্ম হয়।তিনি লাল ঠোঁট এবং সাদা ত্বকের জন্য বিখ্যাত ছিলেন । কিন্তু এর ব্যাবহার শুধু মাত্র অভিজাত্য পরিবারের মেয়েরা ,অভিনেতারা বা যারা পর্দার সামনে অভিনয় করতো এবং পতিতারা তারাই ব্যাবহার করতে পারতো এ প্রথা প্রায় তিন দশক ধরে চলেছে।

১৮৮৪ খ্রিষস্টাব্দ গেরলাইন নামক একটি ফরাসি সুগন্ধি কোম্পানি প্রথম বানিজ্যিক ভাবে লিপস্টিক তৈরি করে। তারা লিপস্টিক মোম,ময়দা, তেল দিয়ে তৈরি করেছিল যা একটি রেশম কাগজে আবৃত থাকতো । ১৯২০ সালে লিপস্টিক নারীদের দৈনিন্দিন জীবনযাত্রায় স্থায়ী ভাবে জায়গা করে নেয়। ১৯২৩ সালে, বিজ্ঞানী James Bruce Mason Jr. সুইভেই আপ টিউব ( এমন টিউব যার মধ্যে দুটি অংশ এমন ভাবে লাগানো থাকে যে এর একটি অংশ ঘুরালে অন্যটি এর ভেতর থেকে বের হয়) আবিস্কার করে বর্তমান লিপস্টিক প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *